Home Uncategorized বঙ্গবন্ধুর প্রিয় জামাতা ওয়াজেদ মিয়া(সুধা মিয়ার) ১১তম মৃতূাবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন জাপান...

বঙ্গবন্ধুর প্রিয় জামাতা ওয়াজেদ মিয়া(সুধা মিয়ার) ১১তম মৃতূাবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন জাপান আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন প্রধান ।

838
0
SHARE

নিজস্ব প্রতিনিধি :

আজ ৯ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার( সুধা মিয়া) একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী ।

বর্নাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী এই স্বনামধন্য বিজ্ঞানী ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার পীরগঞ্জের ফতেপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল কাদের মিয়া ও মাতার নাম ময়জুন্নেসা। তিনি পিতামাতার ৭ সন্তানের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ।

বাঙালি জাতির এক গর্বিত ও আলোকিত মানুষের নাম ওয়াজেদ মিয়া। তাকে ভালবেসে ডাকতেন সুধা মিয়া ।ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও তার নির্মোহ জীবনযাপন- জাতির কাছে করেছে চির অম্লান। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

নিজ গ্রাম ফতেপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি ও পীরগঞ্জ থানার হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন শেষে ১৯৫২ সালের জুলাই মাসে রংপুর জেলা স্কুলে ভর্তি হন তিনি। ১৯৫৬ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন এই স্কুল থেকেই। এরপর রাজশাহী সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ১৯৫৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান) কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন।

১৯৬১ সালের প্রথম দিকে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদশের্র প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদান করেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।

তত্‍কালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর ছিলেন জেনারেল আজম খান। যার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং জোরদার হতে থাকে। আন্দোলন শুরু হওয়ার ৩য় দিনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন বিকাল ৬টায় বলেন- ওয়াজেদ, তুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর মধ্যে একমাত্র নির্বাচিত সহ-সভাপতি, মুজিব ভাই তোমার সঙ্গে দেখা করতে চান। তুমি এখনি আমার সঙ্গে চল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর বাড়িতে এম এ ওয়াজেদ মিয়ার এটাই ছিল প্রথম সাক্ষাত্‍।

ওই সময় ছাত্র আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়ার ১১ দিন পর ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য আসেন তার বন্ধু আঞ্জুমান। সাক্ষাত্‍ শেষে ফেরার পথে জেলগেটেই দেখা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবগের্র সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসময় এম. এ ওয়াজেদ মিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেন তার পরিবারের সকলের সঙ্গে। শেখ হাসিনার সঙ্গে ওয়াজেদ মিয়ার এটাই ছিল প্রথম দেখা।

এরপর তিনি ১৯৬৩ সালের ৩০ এপ্রিল তত্‍কালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কেন্দ্রে যোগদান করেন। ১৯৬৭ সালের আগষ্টে পি. এইচ. ডি ডিগ্রী শেষ করেন তিনি। আর একই বছর ১৭ নভেম্বর শবে-বরাতের রাতে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়।

সে সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেলে বঙ্গবন্ধু তাকে একটি রোলেক্স ঘড়ি উপহার দেন। যা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন দীর্ঘদিন।

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া ইতালীর ট্রিয়েষ্টস্থ আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থ কেন্দ্রে ৬ মাস গবেষণা কর্ম শেষে ১৯৭৪ সালের ১ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ৯ আগষ্ট পশ্চিম জার্মানীস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর বিশেষ আমন্ত্রণে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া শেখ হাসিনা, শেখ রেহানাসহ তার ছেলে জয় ও মেয়ে পুতুলকে নিয়ে জার্মানীর রাজধানী মেলবোর্ন সফর করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬ ঘটিকায় ঘুম ভাঙ্গে জার্মানীর রাষ্ট্রদূতের ডাকে। অত:পর তিনি জানতে পারেন যে, বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ২৫ আগষ্ট আত্মরক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেন ভারতে। ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে একবার ওয়াজেদ মিয়ার সাক্ষাত্‍ হয়।

১৯৭৫ সালের ৩ অক্টোবর পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া ভারতীয় আণবিক শক্তি কমিশনের অধীনে আণবিক খনিজ বিভাগে দিল্লীস্থ কেন্দ্রে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে ১ অক্টোবর সাময়িক ও দৈনিক ভিত্তিতে ভারতীয় আণবিক শক্তি কমিশন থেকে পমরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার জন্য একটি পোষ্ট ডক্টোরাল ফেলোশীপের বন্দোবস্ত করা হয়। ওই ফেলোশীপের শর্তানুসারে বাসা ও অফিসে যাতায়াতের সুবিধাদির অতিরিক্ত দৈনিক ভাতা প্রদান করা হতো ৬২ রুপি ৫০ পয়সা মাত্র।

১৯৭৭ এর গোড়ার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোরারজী দেশাই ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম.এ ওয়াজেদ মিয়ার পরিবারের উপর বিভিন্ন ধরণের চাপ ও হয়রানিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়।

এরই প্রেক্ষিতে ১৯৮১ সালের ১৭ মে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ, এম কোরবান আলী ও মেয়ে পুতুলসহ শেখ হাসিনাকে ঢাকা পাঠান।

১৯৯২ সালে ৫ জুন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া স্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুত্র জয়কে নিয়ে সৌদি যান সেদেশের বাদশার অতিথি হিসাবে। এরপর ৯ জুন পবিত্র হজ্জ ব্রত পালন করেন।

তিনি বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের ভৌত বিজ্ঞান সদস্য ছিলেন, পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ১৯৯৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

এর ১০ বছর পর ২০০৯ সালের ৯ মে ৬৭ বছর বয়সে এই কৃতি বিজ্ঞানী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে নিজ এলাকা পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here