Home কলাম দেশের জন্য প্রাণ দিলে মান বাড়ে দুই ধারে !!!— কবি মোঃ আলী...

দেশের জন্য প্রাণ দিলে মান বাড়ে দুই ধারে !!!— কবি মোঃ আলী আক্কাস তালুকদার (অবঃ) সেনা কর্মকর্তা —

300
0
SHARE

বছর ঘুরে একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই বুকের ভেতরে কিযেনো হাহাকার! আত্মচিৎকার! স্বজনহারা বন্ধনহারা সন্তানহারা, বাবা- মা হারানো কষ্টের বুকভাংগা কান্নার করুন আর্তনাদ সমস্ত বাংলার আকাশ বাতাসকে ভারী করে তুলে। কিন্তু কেন? কার জন্য এতো অনুশোচণা? তারা কারা? কেনই বা ভুলতে পারিনা তাদের স্মৃতিগাঁথা বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস ইতি কথা? একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই দলে দলে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাতে যাই শহীদ মিনারে, মিছিল মিটিং সমাবেশ, মানব বন্ধন ইত্যাদির মাঝেই দিনটি অতিবাহিত করি সকলে। শপথ করি মনে মনে আমার ভাইয়ের পবিত্র রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছেন প্রিয়’ মায়ের ভাষা, আমরি বাংলা ভাষা। স্বাধীন করেছেন এই দেশ যারা, তাদের প্রতি অবুঝ শিশু থেকে সকলেই শ্রদ্ধা জানাই নানান ভাবে, বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি দোয়া মাহফিলে। তাদের সহযোদ্ধাগণ যারা বেঁচে আছেন, তাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ মতবিনিময় ও মিষ্টান্ন বিতরন করা হয়। মুক্তিযোব্দাগণকে দেখলে সত্যিই আনন্দ লাগে, গর্ববোধ করি তাদের পাশে দাঁড়ালে, কারন তারাই বাংলার শ্রেষ্ট সন্তান, যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন করেছেন এই দেশ। ছিনিয়ে এনেছেন প্রিয়’ মায়ের ভাষা, তারা অকুতোভয় মাতৃ ভুমির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, জীবন বিলিয়ে দিতে করেননি সংশয়। যার জন্য অর্জন করেছেন মহান বিজয়। তাদের প্রতি সম্মান দেখালে শহীদদের আত্মা শান্তি পায়। যারা মাতৃভূমির জন্য নিজের জীবন স্বেচ্ছায় বিলিয়ে দিয়েছেন তারা ইতিহাসের সকল গর্বের উঁচু সিঁড়ির অধিকারী। পর কালেও তাদের জন্য দান করবেন খোদা সু-সম্মান -সু মহান মর্যাদা।

গভীর ভাবে কান পেতে রাখলে শুনা যায় অজস্র আগ্নে অস্ত্রের জ্বলন্ত বুলেটের গর্জন। ছিন্ন- বিছিন্ন করে দিয়েছে অগনিত নিঃস্পাপ প্রান। কি অপরাধ ছিল তাদের? অপরাধ একটাই প্রিয়’ মায়ের ভাষায় প্রান খুলে কথা বলবে। এই জন্যই হারাতে হয়েছে সালাম বরকত রফিক জব্বারও শফিউলের মতন আরো অনেকের প্রান, যার রেশ ধরেই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা লাভ করতে হারাতে হয়েছে প্রায়ই ত্রিশ লাখ তাজাপ্রান, লুন্ঠন করেছে পবিত্র মা’ বোনের ইজ্জত। তবুও অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি বীরের জাতি বাঙালী। যারা এই পবিত্র মাতৃ ভুমির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন মূল্যবান প্রানের বিনিময়ে। তাদের অনেকের লাশও দাপন হয়নি নিষ্টুর হানাদার বাহিনীর নিষ্টাচারে। বুলেটের আঘাতে প্রাণ কেড়ে নিয়েও শান্ত থাকেনি হায়নারা, বরং মরাদেহের নানাহ অঙ্গ-পতঙ্গের উপর অগনিত বেয়োনেট দ্বারা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে উল্লাস করেছে ওই সময়ে “হায়নার” দলে। মা’ বোনের পবিত্র ইজ্জত ছিনিয়ে নিয়েও শান্ত হয়নি নরপিশাচগনে, হাত বেঁধে পড়নের কাপড়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে উল্লাস করেছে শয়তানের দলে। অবুঝ নিস্পাপ শিশুকে মায়ের কোল হতে ছিনিয়ে নিয়ে ফুটবলের মতন খেলা করেছে লাল বাহীনির দলে, যুবক ভাইদেরকে আঘাতে আঘাতে ক্ষত- বিক্ষত করার পর শরীরে লবণও মরিচের গুঁড়া মেখেই শান্ত হয়নি, জীবনের শেষ মূহুর্তে একটু পানি পানি করে আকুতি মিনতি করলে, হানাদার বাহিনী মুক্তির সেনাদের বুকের উপর বুট দিয়ে লাথিমেরে শোয়ায়ে বেয়োনেট দিয়ে গলায় খোঁচা মেরে ধরে পানির পরিবর্তে মুখে প্রস্রাব করে ঠাট্টা করেছে। এমনি করে কতযে নিষ্টুরতা নির্মমতা! মনুসত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে তারা! যারা দু’ চোখে দেখেছেন এবং এই অত্যাচারে স্বীকার হয়েছেন তারাই শুধু জানেন। এদেরকে সাহায্য করেছে এই দেশেরই কিছু বেঈমান ঘাতক স্বার্থপর লোভী মানুষ, যারা মায়ের সাথে বিস্বাস ঘাতকতা করেছে, জাতী তাদেরকে স্মরণ করে, করবে জনম জনম ধরে ঘৃনার মাধ্যমে। তাদের অধঃপতন হবেই হবে ইহ্ এবং পরপাড়ে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতার জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে এই দেশ, তারা অনেকেই বেঁচে নেই, তবে তাদের অবদান রয়েছে অসীম। যা কোনো কিছুর বিনিময়ে শোধানো যাবেনা, তবে কিছু হলেও যাবে তখন, যখন এই দেশকে মনে প্রানে ভালবাসবে নিজের মায়ের মতন আপন ভেবে। তবেই বীর শহীদদের আত্মার শান্তি হবে।

প্রত্যেকের কাছেই নিজের জীবন অতি আপন, সেই জীবন বিষর্জন তারাই দিতে পারেন, যারা নিজের চাইতেও অপরকে বেশী ভালবাসেন। এই ভালবাসা দুই রকম (১) মানুষগনকে (২) দেশ অথবা মাতৃভুমিকে। মানুষগনকে ভালবাসলে দেশকে ভালবাসা হয়, দেশকে ভালবাসলে মানুষগনকে ভালবাসা হয়। এটা যারা করতে পারেন, তারাই প্রকৃত দেশ প্রেমিক। তারা মরে গেলেও বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে, স্মরণীয় হয়ে থাকেন ইতিহাসের ঘরে ভক্তির মাধ্যমে। সমগ্রজাতী তাদের জন্য প্রার্থনা করেন প্রভূর নিকটে, এটাই আত্মত্যাগের স্বার্থকতা। একদিন যেতেই হবে পরপারে, তবে মানুষের জন্য নিবেদিত প্রান যারা, তারা মরেও মরেন না সুকর্মের ফলে। তাদেরই একজন মহান মানবতার কর্নধার, মানব দরদী সমাজ দরদী নিবেদিত প্রান, সোনার বাংলার চাঁন। যার আত্মত্যাগ সমগ্র দুনিয়াজুড়ে প্রসংশার ঝড় তুলেছেন, যাকে সারা দুনিয়া ব্যাপী মহান মানব দরদী নেতা হিসাবে জানেন চেনেন তিনিই আমাদের বাংগালী জাতীর গর্ব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার ডাকে প্রিয়’ মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে বিলিয়ে দিয়েছেন ত্রিশ লাখ তাজা প্রান। তিনি তার জীবনকে দেশও মানুষের জন্য বিলিয়ে দিয়ে গেছেন বুঝিয়ে গেছেন মানুষ- মানুষের জন্য, দেশের জন্য প্রান দিলে মান বাড়ে দুই ধারে। আজকের এই দিনে স্মরণ করছি বাংগালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল মুক্তিযোব্দাগনকে। স্মরণ করছি ভাষা সৈনিক সালাম’ বরকত’ রফিক’ জব্বার’ শফিউল এর মতন অসংখ্য ভাই বোনগনকে, যাদের প্রানের বিনিময়ে দিয়ে গেছেন প্রিয়’ মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। এই মহান দেশ প্রেমিকদেরকে শান্তিতে রাখুন খোদা চিরতরে। আর যেন কোনো বেঈমান ঘাতকের জম্ম না হয় এই বাংলার মাটিতে, সাবধান! সাবধান! সাবধান! সকলে।

লেখক পরিচিতিঃ
কবি’ লেখক ও সাংবাদিক ।
সভাপতিঃ স্বপ্নীলকন্ঠ সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদ- কচুয়া উপজেলা।
যুগ্ম-সম্পাদক ঃ পাঠক সংবাদও বিডিপি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here