Home Column মোবাইলের জন্য তরুণ-তরুণীদের কাছে হারিয়ে যাচ্ছে বইয়ের গুরুত্ব  !!! — ইঞ্জিনিয়ার মোঃ...

মোবাইলের জন্য তরুণ-তরুণীদের কাছে হারিয়ে যাচ্ছে বইয়ের গুরুত্ব  !!! — ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জসীম উদ্দিন —

305
0
SHARE

কোনো কিশোর-কিশোরীর কাছে যদি জানতে চাওয়া হয়, যে সময়ে মোবাইল ফোন ছিল না সে সময়টি সম্পর্কে তাদের ধারণা কি? নিশ্চিতভাবেই তারা অবাক হবেন। আর যদি কোনো যুবক-যুবতীর কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়, মোবাইল ফোন ছাড়া তাদের পক্ষে থাকা সম্ভব কি না? এক কথায় জবাব আসবে না। অথচ দুই দশক আগেও এখনকার মতো বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের হাতে ছিল না কোনো মোবাইল ফোন। আর কে না জানে এখনকার সময়ের স্মার্ট মোবাইল ফোন শুধু কথা বলা আর বার্তা পাঠানোর যন্ত্র নয়, এর রয়েছে নানা ব্যবহার এবং এটিকে টেলিফোন না বলে কম্পিউটার বলাই ভালো। বাংলাদেশে এখন জনসংখ্যার অনুপাতে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা শতকরা ৭৮ ভাগেরও বেশি।

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে দেশে সক্রিয় মোবাইল সংযোগের সংখ্যা আছে প্রায় বারো কোটিরও বেশী। দেশে এখন জনসংখ্যার অনুপাতে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশী। আজকের বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার সময়ে মোবাইল ফোন একটি অনন্য সংযোজন। বর্তমানে ছোট বড় সকলেরই যেন মোবাইল ছাড়া এক মুহুর্তও চলেনা। বর্তমান যান্ত্রিক বিশ্বে মোবাইল ফোন মানুষের জীবনে একটি মৌল মানবিক চাহিদা হয়ে দাড়িয়েছে। এর কারন আমাদের প্রত্যেকেরই জানা। বর্তমানে স্কুলগামী ও কলেজগামী কিশোর-কিশোরীদের হাতে নিত্য নতুন বাহারি মোবাইল। মোবাইল প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের বিপদগামী করে তুলছে। যার জন্য প্রয়োজন কঠোর আইনী পদক্ষেপ ও অভিভাবক মহলের সচেতনতা।

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে পদ-দলিত করে যে ভাবে পশ্চিমা অপ-সংস্কৃতিকে স্বীয় মোবাইলে ধারন করছে তা নিঃসন্দেহে তাদের বিপদগামী করে তুলছে। শুধু তাই নয়, এতে কিশোর-কিশোরীদের অনৈতিক কাজে প্ররোচিত করছে এবং মেতে উঠছে মারাত্মক সব অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে। ফলে সামজিক অবক্ষয় ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারন করছে। অনেক সময় অনৈতিক নীল ভিডিও কাটিং অজান্তেই ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেটে যা দেখে এখন কিশোর-কিশোরী বিপথে ধাবিত হচ্ছে। যে সময়ে তাদের চরিত্র গঠনের দিকে মনোযোগী হওয়ার কথা সে সময় তারা চরিত্র ধ্বংশের পথে হাটতে উৎসাহিত হচ্ছে। সম্প্রতি কালের পত্র-পত্রিকার অসংখ্য ঘটনা প্রবাহ এসবের সাক্ষ্য বহন করে।

মোবাইলের কারণে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ফেসবুক নেশা এখন সর্বাধিক। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের মোবাইল আসক্তি হাজার হাজার পরিবারকে ফেলেছে দুর্ভাবনায়। হঠাৎ চালু হওয়া ‘মোবাইল সংস্কৃতি’ বুঝতে শেখার আগেই ফেসবুক, গুগলে উলঙ্গ বেল্লাপনাপূর্ণ ছবির ছড়াছড়ি তরুণ-তরুণীদের কচি মন বিগড়ে দিচ্ছে। চরিত্র গড়ার আগেই নষ্ট হচ্ছে কিশোর-কিশোরীর চরিত্র। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লেখাপড়ায় এবং পরিবার-সমাজে। জীবন গঠনের আগেই নতুন প্রজন্ম হারাচ্ছে পথের দিশা। বাবা-মায়ের ভাষায় অপরিণত বয়সে ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নিষিদ্ধের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সহজাত প্রবৃত্তির কারণে ছাত্রছাত্রীরা বইয়ের বদলে মোবাইলের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। ছোট বেলায় বাংলা ২য় পত্রের ভাব-সম্প্রসারন অধ্যায়ে “বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ” শিরোনামে একটি ভাব-সম্প্রসারন এর ব্যাখ্যা আমাদের কাছে খানিকটা কঠিনই ছিল। সে সময় উক্তিটির সার্থকতা যে কতটা গভীর ও বাস্তব সম্মত ছিল তা পুরোপুরি অনুধাবন করতে না পারলেও এখন এর মর্মার্থ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি আমরা।

দেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু-কিশোরীদের হয়রানি। যুক্ত হয়েছে শিশু-কিশোরীদের উত্ত্যক্ততায় নতুন মাত্রা। সম্প্রতি ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে উঠতি বয়সের মেয়েরা। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা, নগ্নছবি এমএমএস করা, ব্লুটুথের মাধ্যমে ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে দেয়া, এ ধরনের কিছু বিব্রতকর ঘটনার অহরহ মুখোমুখি হচ্ছে কিশোরীরা। যৌন নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফির মতো ভয়াবহ যৌন অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। এসব ঘটনার জের ধরে সমাজে কিশোরীদের আত্মহত্যার ঘটনা যেমন বাড়ছে; তেমনি বাড়ছে কিশোর অপরাধীর সংখ্যাও। এ নিয়ে পরিবারের অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি মানুষ আজ উদ্বিগ প্রকাশ করছে। যৌনকর্মে ঠিক কত কিশোরী জড়িত; এর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও এ বিষয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে লাখ লাখ শিশু-কিশোরী বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং এদের একটি বড় অংশ যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। গবেষণায় জানা যায়, স্কুলগামী শিশুরা মোবাইল ফোনকে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ মাধ্যম বলে মনে করে। পর্নোগ্রাফির সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড নির্ধারণ করে ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২’ অনুমোদন হয়েছে। আইনে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ প্রভৃতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পর্নোগ্রাফি ব্যবহার ও এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-কিশোরীরা।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে শতকরা ৮০ ভাগ কিশোর পর্নোগ্রাফির দর্শক। যৌনকর্মীদের মধ্যে শতকরা ৮৫ জনই ১৮ বছরের কম বয়সে এই পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। শিশুদের পর্নোগ্রাফির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়টি ভয়াবহভাবে বাড়লেও সচেতনতার অভাবে এখনো তা অন্ধকারেই রয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন বলেছিলেন, প্রথমত প্রযুক্তির উন্নয়নের ভালো দিকের সাথে সাথে কিছু খারাপ দিকও যুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ইন্টারনেট, মোবাইলফোনের ব্যবহার অন্যতম। প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে তাতে অত্যাধুনিক এসব প্রযুক্তির ব্যবহারে নীতিমালা বা আইনের প্রয়োগ না থাকলে সমাজে এই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ জন্য আইনের পাশাপাশি সমাজের সচেতনতা দরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. গীতি আরা নাসরীন বলেছিলেন, সবার হাতে মোবাইল ফোন ছড়িয়ে পড়ায় এখন কেউই কোথাও পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে না। নতুন ধরণের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে মানুষের মধ্যে’। ‘ফোন আছে বলে আমরা সারাক্ষণ ফোন করছি। কিন্তু যখনই কাউকে ফোনে পাচ্ছি না তখন নতুন করে দুশ্চিন্তা শুরু হচ্ছে। সহজলভ্য হওয়ায় এই মোবাইলের ব্যবহার এমনভাবে বেড়েছে যে রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে ৭-৮ বছর বয়সী শিশুদের হাতেও মোবাইল শোভাবর্ধন করে। মোবাইল ও ফেসবুক যুগের আগে ছেলেমেয়েরা রাতে বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ত। এখন মোবাইল টিপতে টিপতে ঘুমিয়ে পড়ে। ব্লগ, ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে পড়েছে মোবাইল। দ্রুত যোগাযোগে মোবাইল আশীর্বাদ হলেও অনেকের জন্য হয়েছে সর্বনাশ। এখন বই পড়ে জ্ঞানার্জন যেন ভুলতে বসেছে কিশোর-কিশোরীরা। অথচ কয়েক বছর আগেও বই পড়ার হিড়িক দেখা গেছে শহুরে ছেলেমেয়েদের মধ্যে। স্কুল-কলেজপড়–য়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। মোবাইলে আকৃষ্ট হয়ে পড়ায় মেধা বিকাশে যে বই পড়া অপরিহার্য সেটা ক্রমশ কমে আসছে।

দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়া ছাত্রছাত্রীদের দেখা যায় বাসে, রিকশায় বা পায়ে হেঁটে চলার সময় কেউ ফোনে কথা বলছে, কেউ গান শুনছে। এটা নিত্যদিনের চিত্র। অপরিণত বয়সে মোবাইল আসক্তি কত হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে সে খবর কে রাখে? মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহারে ১৩ থেকে ১৯ বছরের ছেলে-মেয়েদের মস্তিষ্ক বিকাশে কোনো সমস্যা হয় কিনা তা নিয়ে এবার গবেষণা শুরু করছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা? এমন ব্যাপক গবেষণা এর আগে হয়নি। টিনএজাররা দিনে কতক্ষণ এবং কি কাজে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা বের করা হবে।

গবেষক পল ইলিয়ট বলেন, ‘‘১০ বছরেরও কম সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও মস্তিষ্কের ক্যানসারের মধ্যে যে কোনো সম্পর্ক নেই, তা জানা গেছে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় ধরে এবং বেশি বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারে কি হতে পারে, কিংবা শিশু-কিশোরদের উপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের কি প্রভাব পড়তে পারে, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়?’’

দেশে ১৮ বছরের কম বয়সীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নেই। অথচ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই উৎসাহী কিছু শিশু-কিশোর ব্যবহার করছে আধুনিক প্রযুক্তির সব মোবাইল হ্যান্ডসেট। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিশুদের হাতে হাতে এখন মোবাইল সেট। তবে এসব মোবাইলের মাধ্যমে শিশুরা যে শুধু তার পরিবারের সদস্য, শিক্ষক ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে তা নয়, একই সঙ্গে এর মাধ্যমে তারা পর্নো ছবির প্রতিও আসক্ত হয়ে পড়ছে। মোবাইলফোনের মাধ্যমে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা নিজেদের তোলা আপত্তিজনক ছবি ইন্টারনেটে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিস্ময়কর সত্য যে, শিশু শিক্ষার্থীদের মোবাইল হ্যান্ডসেট কিনে দেওয়ার আবদার পূরণ করছেন খোদ অভিভাবকরাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি প্রযুক্তি নিয়ে শিশু-কিশোরদের অতি আগ্রহ, মোবাইলফোনের সহজলভ্যতা ও স্বল্প দামের কারণে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে কৃত্রিম চাহিদাও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যেতেই পারে। কিন্তু শিশুদের দ্বারা মোবাইলফোনের অপব্যবহার হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। হঠাৎ মোবাইল ফোন হাতে পেয়ে কৌতূহলবশত অবুঝ মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্বল্প সময়ের কথোপকথনে অপরিচিতদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে প্রেমের সম্পর্কে। এদের অনেকে পরবর্তীতে ফোনে কথা বলা যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। আর প্রতারিত হয়ে আবেগবশত এই কিশোরীরা কখনো বা বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম বলেন, কিশোর-কিশোরীরা মোবাইল-ইন্টারনেট প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে অল্প বয়সেই যৌন আচরণে প্রলুব্ধ হচ্ছে, ফলে তারা সুস্থ বিনোদন থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এহেন করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য এখনও সময় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের যতটুকু পরিধি রয়েছে, তার মধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। পাশাপাশি আমরা যারা অভিভাবক রয়েছি তাদেরও সজাগ থাকতে হবে এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের মোবাইল ব্যবহারে চরম কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে।

লেখক পরিচিতিঃ
বিশিষ্ট কলামিস্ট, গবেষক ও রাজনীতিবিদ।
সাধারন সম্পাদকঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, জাপান শাখা।
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here